১০০ বৈদ্যুতিক বাস কিনতে ৪০০ কোটি টাকা চায় বিআরটিসি

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৫৫ পূর্বাহ্, জুলই ১৯, ২০২৬

ঢাকাসহ দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। প্রথম পর্যায়ে ১০০টি বৈদ্যুতিক (ইলেকট্রিক) বাস কেনা, ২৫টি চার্জিং স্টেশন স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে ৪০০ কোটি টাকা অনুদান বা ইক্যুইটি বরাদ্দ চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।

সম্প্রতি বিআরটিসি শাখা থেকে অর্থ বিভাগে পাঠানো এক চিঠিতে এ প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব অজিত দেব সই করেন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা হিসেবে বিআরটিসি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী মহানগর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে গণপরিবহন সেবা দিয়ে আসছে। পরিবেশবান্ধব ও টেকসই গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বহরে ইলেকট্রিক বাস যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে সমন্বিত, দক্ষ ও সবুজ পরিবহন করিডোর গড়ে তোলা, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে এ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সড়ক পরিবহন বিভাগ জানিয়েছে, ইলেকট্রিক বাস চালু হলে জ্বালানি ব্যয় ও বায়ুদূষণ কমবে, যাত্রীসেবার মান বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে পরিচালন ব্যয়ও হ্রাস পাবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী এসব বাস ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ রুটের পাশাপাশি বিভাগীয় শহরগুলোর আন্তঃনগর রুটেও পরিচালনা করা হবে।

জানা গেছে, এর আগে একই উদ্দেশ্যে ৪০০ কোটি টাকা অনুদান চাওয়া হলেও অর্থ বিভাগ উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছিল। তবে বিআরটিসি জানিয়েছে, বর্তমান আর্থিক সক্ষমতায় পুরো প্রকল্প নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। আবার ঋণ নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত ঋণ ও সুদের চাপ তৈরি হবে।

Nagad

এ কারণে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের পরিচালন বাজেট থেকে ৪০০ কোটি টাকা অনুদান বা ইক্যুইটি হিসেবে বরাদ্দ দেওয়ার জন্য অর্থ বিভাগের কাছে পুনরায় অনুরোধ জানিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ১০০টি ইলেকট্রিক বাস কিনতে ২৫০ কোটি টাকা, ২৫টি চার্জিং স্টেশন নির্মাণে ৫০ কোটি টাকা, আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি ও স্পেয়ার পার্টসের জন্য ৩৫ কোটি টাকা, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তায় ২০ কোটি টাকা, পরিবহন, নিবন্ধন ও অন্যান্য ব্যয়ে ২৫ কোটি টাকা এবং ডিপো ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনা উন্নয়ন ও মেরামতে ২০ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বিআরটিসির মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থায় পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে, জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে এবং যাত্রীদের জন্য আরও আধুনিক, নিরাপদ ও টেকসই পরিবহনসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।