বিদেশে ৪০ হাজার কোটি টাকার সম্পদের সন্ধান পেল এনবিআর, জড়িতদের ব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক:নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: ২:৪২ অপরাহন, গাস্ট ১৮, ২০২৫

বাংলাদেশ থেকে অর্থপাচার করে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তোলার তথ্য পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীনস্থ কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি)। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত পাঁচটি দেশের সাতটি শহরে অনুসন্ধান চালিয়ে এই তথ্য পাওয়া গেছে বলে রোববার (১৭ আগস্ট) প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে জানান সিআইসির মহাপরিচালক আহসান হাবিব।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আয়োজিত বৈঠকে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান ও সিআইসির মহাপরিচালক এ তথ্য উপস্থাপন করেন। পরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে গণমাধ্যমে এ বিষয়ে বার্তা পাঠানো হয়।

সিআইসি জানায়, এখন পর্যন্ত ৩৪৬টি সম্পত্তি চিহ্নিত করা গেছে যেগুলো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে বিদেশে গড়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি নয়টি দেশে বাংলাদেশিদের হাতে থাকা ৩৫২টি বিদেশি পাসপোর্ট এরও সন্ধান পাওয়া গেছে। দেশগুলো হলো—অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বারবুডা, অস্ট্রিয়া, ডমেনিকা, গ্রেনেডা, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, নর্থ মেসিডোনিয়া, মালটা, সেন্ট লুসিয়া ও তুরস্ক।

মহাপরিচালক আহসান হাবিব বলেন, আমাদের এ অনুসন্ধান কেবল প্রাথমিক চিত্র। আরও অনেক তথ্য আমরা হাতে পাচ্ছি। এ পর্যন্ত যা পাওয়া গেছে, সেটি ‘টিপ অব দ্য আইসবার্গ’। বিদেশি সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে বাংলাদেশের অনুকূলে আনার পাশাপাশি জড়িতদের সাজা নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।

তিনি অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার আমলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডাটাবেজে নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে অনেক তথ্য গায়েব করে দেয় পাচারকারীরা। তবে আশার কথা হলো, মুছে দেওয়া তথ্য উদ্ধার করার সক্ষমতা অর্জন করেছে সিআইসি।

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ইউনূস বৈঠকে বলেন, দেশের অর্থনৈতিক খাতের এই লুটপাট ভয়াবহ দেশদ্রোহিতা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর দেশ গড়তে হলে অবশ্যই এই লুটেরাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

Nagad

তিনি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ দেশের সম্পদ লুট করে বিদেশে সম্পত্তি তৈরি করার সাহস না পায়। দেশের সম্পদ ফিরিয়ে আনতে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।