ইয়েলো অ্যাপারেলস ঋণ কেলেঙ্কারি: জনতা ব্যাংকের ৭ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে দুদকের তলব

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৩৫ পূর্বাহ্, জুলই ১৯, ২০২৬

জালিয়াতির মাধ্যমে কাগুজে রপ্তানি দেখিয়ে ইয়েলো অ্যাপারেলস লিমিটেডের নামে নেওয়া প্রায় ৪১৬ কোটি টাকার ঋণ আত্মসাতের অভিযোগে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে জনতা ব্যাংকের সাতজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সম্প্রতি দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে পাঠানো নোটিশে তাদের ১৯ জুলাই দুদকে হাজির হতে বলা হয়েছে। তলবকৃতদের মধ্যে জনতা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি), মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ও উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) পদমর্যাদার কর্মকর্তারা রয়েছেন। অভিযোগটি অনুসন্ধান করছেন দুদকের উপপরিচালক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীনের নেতৃত্বাধীন তদন্ত দল।

এর আগে একই অভিযোগে গত ১৬ জুলাই জনতা ব্যাংকের আরও ১০ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক।

চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি এ ঘটনায় ২৩ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, তার ভাই এস এফ রহমান, তাদের দুই ছেলে, জনতা ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবং ব্যাংকের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, অভিযুক্তরা যোগসাজশে জনতা ব্যাংকের লোকাল অফিস, ঢাকার মাধ্যমে নবগঠিত প্রতিষ্ঠান ইয়েলো অ্যাপারেলস লিমিটেডের নামে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) সুবিধাসহ বিপুল পরিমাণ ঋণ অনুমোদন ও উত্তোলন করেন। যদিও প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকদের এ ধরনের ব্যবসা পরিচালনার পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি (Back-to-Back Letter of Credit) ব্যবস্থার অপব্যবহার করে কাগুজে আমদানি-রপ্তানি দেখানো হয় এবং ভুয়া অ্যাকোমোডেশন বিল তৈরি করা হয়। এর মাধ্যমে ৪ কোটি ৮৯ লাখ ৭৮ হাজার ৬৭৯ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪১৬ কোটি ৩১ লাখ ৮৭ হাজার ৭১২ টাকা, আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

Nagad

দুদকের দাবি, আত্মসাৎ করা অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তর, রূপান্তর ও লেয়ারিং করে মানি লন্ডারিং করা হয়েছে।

দুদক জানিয়েছে, ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা ও নতুন তথ্য উদঘাটনে ধারাবাহিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।