ঢাকার অলিগলি থেকে অট্টালিকা-সবখানেই সহজলভ্য প্রাণঘাতী মাদক
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযানের পরও থামানো যাচ্ছে না মাদকের বিস্তার। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে বিক্রি হওয়ায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে মাদকসেবীর সংখ্যা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদক শুধু ব্যক্তিকে নয়, গোটা সমাজকেই অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। পরিবারে হত্যাকাণ্ড, পারিবারিক ভাঙন, সামাজিক অস্থিরতা—সব কিছুর পেছনে মাদকের ভয়াবহ প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
মাদকের বিস্তার অলিগলি থেকে অট্টালিকা
ঢাকার অলিগলি, পাড়া-মহল্লা, বস্তি থেকে শুরু করে উচ্চবিত্তের অট্টালিকায় পর্যন্ত সহজলভ্য মাদক। দুই যুগে এর বিস্তার সবচেয়ে বেশি ঘটেছে। প্রাণঘাতী এসব নেশা কেড়ে নিচ্ছে জীবনীশক্তি, ধূমপান থেকে শুরু হচ্ছে আসক্তির যাত্রা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার তিন নেতার মাজার, চানখাঁরপুল সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে রীতিমতো চলছে মাদকসেবনের আসর। মাদকাসক্তদের অনেকে বলছেন, এ দুষ্টচক্র থেকে বের হতে পারছেন না।
২ কোটি আসক্ত, তরুণদের মধ্যে ৮০ শতাংশ
মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থার সভাপতি অধ্যাপক ডা. অরুপ রতন চৌধুরী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ২ কোটি মানুষ মাদকাসক্ত। এর মধ্যে দেড় কোটি নিয়মিত সেবন করে, আর অনিয়মিত সেবনকারী প্রায় ৫০ লাখ। আসক্তদের ৮০ শতাংশই তরুণ।
তিনি বলেন, পারিবারিক শিক্ষার অভাব, মানসিক অবসাদ এবং সামাজিক অস্থিরতা মাদক বিস্তারের অন্যতম কারণ। এখন যারা রক্ষক, তারাই ভক্ষক হয়ে যাচ্ছেন।
পুলিশের চ্যালেঞ্জ
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, মাদক ব্যবসায়ীরা অনেক বেশি সংগঠিত ও কৌশলী হয়ে উঠেছে। পুলিশের ওপর গুলিও চালানো হচ্ছে। ঝুঁকি নিয়েই তারা অভিযান চালাচ্ছেন।
তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সীমান্তঘেঁষা ঝুঁকিপূর্ণ বাংলাদেশ
বিশেষজ্ঞরা জানান, দেশে বর্তমানে ২৮ ধরনের মাদক প্রচলিত। আন্তর্জাতিক মাদক রুট ‘গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল’ ও ‘গোল্ডেন ক্রিসেন্ট’-এর কাছাকাছি হওয়ায় বাংলাদেশ সবসময় ঝুঁকিতে থাকে। তাছাড়া সীমান্তবর্তী ৩২ জেলার অনেক জায়গা অরক্ষিত থাকায় শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক। সূত্র: এখন টিভি

