এক ব্যক্তির হাতে রাষ্ট্র সমর্পণের সুযোগ সংবিধানেই আছে: ড. আলী রীয়াজ

নিজস্ব প্রতিবেদক:নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: ৮:১৭ অপরাহন, জানুয়রী ২৪, ২০২৬

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী প্রফেসর ড. আলী রীয়াজ বলেছেন, এক ব্যক্তির হাতে রাষ্ট্র সমর্পণের সুযোগ বর্তমান সংবিধানেই বিদ্যমান। এই সাংবিধানিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই স্বাধীনতার পর থেকে বারবার দেশকে একক ব্যক্তির ইচ্ছার কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. আলী রীয়াজ বলেন, সংবিধানের এই মারাত্মক দুর্বলতা দূর করতেই জুলাই সনদ প্রণয়ন এবং গণভোটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে এই সনদ তৈরি করেছে, যেখানে সংবিধানে গুরুত্বপূর্ণ ও সুস্পষ্ট পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। এসব বাস্তবায়িত হলে একক ব্যক্তির ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ থেকে রাষ্ট্র বেরিয়ে আসবে।

রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান সংবিধানে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদানের যে বিধান রয়েছে, তার ব্যাপক অপব্যবহার হয়েছে। বাস্তবে এটি প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছানির্ভর হয়ে পড়েছে। জুলাই সনদে এই ক্ষমতা সীমিত করতে একটি স্বাধীন কমিটি গঠনের প্রস্তাব রয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সম্মতি ছাড়া কাউকে ক্ষমা না দেওয়ার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব কার্যকর করতে গণভোটে জনগণের সম্মতি অপরিহার্য।

নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, সংবিধানে নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির ভূমিকার কথা বলা হলেও বাস্তবে গত তিনটি নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রীর একক ইচ্ছায় কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ক্ষমতা ধরে রাখতে গুরুতর অনিয়ম ও অন্যায় সংঘটিত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ড. আলী রীয়াজ জানান, ভবিষ্যতে যাতে কেউ এককভাবে ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে না পারে, সে জন্য রাজনৈতিক দলগুলো একজন ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রীত্বের মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছরে সীমিত করার বিষয়ে একমত হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রয়োজন।

Nagad

গণভোট প্রসঙ্গে অপপ্রচার নাকচ করে তিনি বলেন, সংবিধানে বিসমিল্লাহ, মহান আল্লাহর ওপর আস্থা ও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিল করা হবে—এমন কোনো বিষয় জুলাই সনদে নেই। প্রস্তাবিত ৮৪টি বিষয়ে পরিবর্তনের কোথাও এ ধরনের কিছু উল্লেখ নেই।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, এবারের গণভোট শহিদদের রক্তের প্রতি আমাদের দায়িত্ব পালনের প্রশ্ন। ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে সঠিক পথে ফিরে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান, পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক ড. সৈয়দ শাহ এমরানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।