ফাইনালে ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় আর্জেন্টিনা-স্পেন
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে দুই ফুটবল পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও স্পেন। রোববার (১৯ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য শিরোপা নির্ধারণী এই লড়াইয়ে নতুন ইতিহাস গড়ার হাতছানি দুই দলের সামনেই।
বিশ্বকাপের আগে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেন এবং কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মধ্যকার বহুল আলোচিত ফিনালিসিমা আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির কারণে তা বাতিল হয়। শেষ পর্যন্ত বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চেই মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল।
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের এটি মাত্র দ্বিতীয় সাক্ষাৎ। এর আগে ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে একমাত্র দেখায় ২-১ গোলে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা।
৪৮ দলের নতুন বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠতে এবার আট ম্যাচের পথ পাড়ি দিতে হয়েছে দলগুলোকে। আর্জেন্টিনা এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে নিজেদের সাতটি ম্যাচই জিতে অপরাজিত রয়েছে। টানা সাত জয়ের মাধ্যমে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্বিতীয় দল হিসেবে এ কীর্তি গড়েছে। এর আগে ২০০২ সালে ব্রাজিল এমন নজির স্থাপন করেছিল।
ফাইনালে জয় পেলে লিওনেল স্কালোনির দল এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ সংখ্যক জয় এবং শতভাগ ম্যাচ জিতে শিরোপা জয়ের বিরল কীর্তি গড়বে। এর আগে উরুগুয়ে (১৯৩০), ইতালি (১৯৩৮) এবং ব্রাজিল (১৯৭০ ও ২০০২) এই রেকর্ড গড়েছিল। এবারের আসরে আর্জেন্টিনা সাত ম্যাচে ১৯ গোল করে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ভয়ংকর আক্রমণভাগের পরিচয় দিয়েছে।
দুর্ভেদ্য রক্ষণে স্পেন
অন্যদিকে স্পেন পুরো টুর্নামেন্টে সাত ম্যাচে মাত্র একটি গোল হজম করে ফাইনালে উঠেছে। রক্ষণভাগের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে তারা বিশ্বকাপ ইতিহাসে অন্যতম সেরা ডিফেন্সিভ পারফরম্যান্সের নজির গড়ার দ্বারপ্রান্তে।
ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে গোলশূন্য রাখতে পারলে বিশ্বকাপজয়ী দল হিসেবে সবচেয়ে কম গোল হজমের নতুন রেকর্ড গড়বে স্পেন। আর একটি গোল খেলেও ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স, ২০০৬ সালের ইতালি এবং ২০১০ সালের নিজেদের দলের রেকর্ড স্পর্শ করবে। গ্রুপ পর্বে কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করার পর সৌদি আরব, উরুগুয়ে, অস্ট্রিয়া, পর্তুগাল, বেলজিয়াম ও ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয় স্প্যানিশরা।
ফাইনালে মুখোমুখি হবে দুই ভিন্ন ফুটবল দর্শন। একদিকে আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত আক্রমণভাগ ও ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতা, অন্যদিকে স্পেনের সংগঠিত ও দুর্ভেদ্য রক্ষণ।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই নির্ধারিত হবে নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। একই সঙ্গে ফুটবল বিশ্ব পাবে ইতিহাসের আরেকটি স্মরণীয় ফাইনালের সাক্ষী।

