যন্ত্রাংশের নামে আনা ৪ বিলাসবহুল গাড়ি শনাক্ত করল কাস্টমস
মোংলা বন্দরে ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ ঘোষণা দিয়ে খণ্ডিত অবস্থায় আনা চারটি বিলাসবহুল গাড়ির চালান শনাক্ত করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। কয়েকটি বড় খণ্ডে কেটে আনা এসব অংশ পুনরায় সংযোজন করলে সম্পূর্ণ গাড়ির কাঠামো তৈরি করা সম্ভব বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
এনবিআর জানায়, চালানটিতে থাকা চারটি গাড়ির সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা বা তারও বেশি। অথচ পুরো চালানটি ব্যবহৃত গাড়ির যন্ত্রাংশ হিসেবে ঘোষণা করে ইনভয়েস মূল্য দেখানো হয়েছে মাত্র ৭ হাজার ৯৩৫ মার্কিন ডলার।
কাস্টমসের অনুসন্ধানে শনাক্ত চারটি গাড়ি হলো-২০১৭ মডেলের রেঞ্জ রোভার ভোগ, ২০১০ মডেলের বিএমডব্লিউ ৬৫০ আই, ২০১৬ মডেলের লেক্সাস এলএক্স৫৭০ এবং টয়োটা ক্রাউন অ্যাথলেট।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গাড়িগুলো সাধারণ খুচরা যন্ত্রাংশের মতো সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করা হয়নি। বরং তিন থেকে চারটি বড় খণ্ডে কেটে আমদানি করা হয়েছে। এসব অংশে গাড়ির গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগ, সেন্সরসহ বিভিন্ন অপরিহার্য যন্ত্রাংশ সংযুক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দার খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয় ও মোংলা সার্কেল চালানটির খালাস কার্যক্রম স্থগিত করে। পরে গত ১৯ জুলাই চালানটির শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করা হয়।
পরীক্ষার সময় বিআরটিএ ও খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) বিশেষজ্ঞদের কারিগরি সহায়তা নেওয়া হয়। এ ছাড়া গাড়ির বিভিন্ন অংশে থাকা স্টিকার, লেবেল, চিহ্ন ও নম্বর বিশ্লেষণের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সহায়তায় গাড়িগুলোর পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
চালানটির বিল অব এন্ট্রি নম্বর সি-৬৯০৪। আমদানিকারক ঢাকার গেন্ডারিয়ার ক্রাউন অটো মোবাইল সার্ভিসেস এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট খুলনার এসটি ইন্টারন্যাশনাল। জাপানের মাহি কার পোর্ট থেকে পণ্যগুলো আনা হয়।
চালানটিতে ১৪ ধরনের পণ্যের মোট ১৬৪টি প্যাকেজ ছিল। ঘোষণায় ব্যবহৃত দরজা, ইঞ্জিন, গিয়ার অ্যাসেম্বলি, সাসপেনশন, নোজ কাট, হেডলাইট, টেইললাইট, ফেন্ডার, কেবিন, স্টিয়ারিং হুইল ও বাম্পারসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশের কথা উল্লেখ করা হয়।
কাস্টমসের প্রাথমিক হিসাবে, চালানটির শুল্কায়নযোগ্য মূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ৯ লাখ ৯৩ হাজার ৫৪৭ টাকা। শুল্ক-কর ও অন্যান্য অর্থ মিলিয়ে পরিশোধযোগ্য অর্থ ধরা হয়েছে প্রায় ৬ লাখ ১০ হাজার টাকা।
তবে কাস্টমস গোয়েন্দা বলছে, আইন অনুযায়ী কোনো পণ্য খণ্ডিত বা অসম্পূর্ণ অবস্থায় থাকলেও তাতে সম্পূর্ণ পণ্যের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য থাকলে সেটিকে সম্পূর্ণ পণ্য হিসেবে শ্রেণিবিন্যাস করা যায়। বিশেষজ্ঞদের মত অনুযায়ী, পরীক্ষায় পাওয়া অংশগুলোর ধরন ও বিন্যাসে সম্পূর্ণ মোটরযানের সেই বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান রয়েছে।
এখন গাড়িগুলোকে আংশিক সংযোজিত অবস্থায় সম্পূর্ণ মোটরযান হিসেবে শ্রেণিবিন্যাস করা হলে কত শুল্ক-কর প্রযোজ্য হবে এবং কী পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা হয়েছে, তা নির্ধারণে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

