বিনামূল্যে সব ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা উপকরণ পৌঁছে দেওয়াই লক্ষ্য: আয়মান সাদিক

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:৩৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৫, ২০২২

শিক্ষকতা একটি মহান পেশা। একজন শিক্ষক সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের কাছে অত্যন্ত মর্যাদা ও সম্মানের পাত্র হয়। তবে; এখন শিক্ষার দেওয়ার ধরন বদলেছে। আগের মতো নেই। এখন ফেসবুক-ইউটিউব বা অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়া হয়। দিনে দিনে ডিজিটাল বাংলাদেশ হওয়ায় এর জনপ্রিয়তাও বাড়ছে। বাড়বেই বা না কেন; খুব সহজে ইন্টারনেট সংযোগ, স্মার্ট ডিভাইস থাকলে ঘরে বসেই পৃথিবীর অনেক অজানা বিষয়সহ নিজের পাঠ্য বইয়ের শিক্ষাও খুব সহজেই পাওয়া যাচ্ছে।

শিক্ষাকে সহজলভ্য করে সবার মাঝে পৌঁছে দেওয়ার তেমনই-এক প্রতিষ্ঠানের নাম ‘টেন মিনিট স্কুল’। যার প্রতিষ্ঠাতা আয়মান সাদিক। যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর ছাত্র ছিলেন। যিনি ২০১৪ সালে ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে টেন মিনিট স্কুলের-কার্যক্রম শুরু করেন। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

এখন তার সেই প্রতিষ্ঠানে প্রথম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত সবগুলো ভিডিওর পাশাপাশি ভর্তি পরীক্ষার সবগুলো কোর্স, বিসিএসের কোর্স, ব্যাংকসহ আইএলটিএস-এর কোর্স সব পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়াও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাহিরে যেসব স্কিল গুলো আমাদের দরকার যেমন, স্পোকেন ইংলিশ, মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, এক্সেল, পাওয়ার পয়েন্ট-ফেসবুক মার্কেটিং, কোরআন শিক্ষা, নামাজ শিক্ষা, আরবি শিক্ষাসহ সহজে সব ধরনের কনটেন্ট টেন মিনিট স্কুলে পাওয়া যাচ্ছে।

কথা বলেছিলাম তরুণ এই উদ্যোক্তা ও মার্কিন সাময়িকী ফোর্বসের এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সেরা ৩০০ তরুণ উদ্যোক্তার তালিকায় স্থান পাওয়া আয়মান সাদিকের সাথে। কথোপকথনের চৌম্বক অংশ সারাদিন ডট নিউজের পাঠকদের কাছে তুলে ধরেছেন সিনিয়র প্রতিবেদক শাহজালাল রোহান।

প্রশ্ন: দেশের অন্যতম শীর্ষ ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম টেন মিনিট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আপনি; শুরুর দিকটা নিয়ে জানতে চাই।

আয়মান সাদিক: টেন মিনিট স্কুলের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১৪ সালে। পরিকল্পনা শুরু হয়েছিল ২০১২ সালে। তখন ভর্তি পরীক্ষার জন্য একটা কোচিং সেন্টারে আমি পড়াতাম। তখন অনেক ছাত্র-ছাত্রী আমার কাছে আসতো, বলতো সাত হাজার টাকা দিয়ে বাবা পাঠিয়েছে কিন্তু কোচিংয়ের ফি ১৩ হাজার টাকা। কি করবো; যখন ছাত্রদের পড়তাম তখন তাদের প্রতি একটা মায়া চলে আসত নিজের ছোট ভাই বা বোনের মত মনে হয়। তখন তাদের জন্য খুব খারাপ লাগতো। আমি তো তাদের ফিফটি পার্সেন্ট ডিসকাউন্ট দিয়ে দিতে পারি না, দিলেও তারা থাকবে কোথায়। তারা খাবে কি? এরকম একটা আইডিয়া থেকেই টেন মিনিট স্কুলের যাত্রা শুরু।

Nagad

প্রশ্ন-এরপরে কি হয়েছিলো?

আয়মান সাদিক: এরপর আইডিয়া আসলো, আমরা যদি সবগুলো ক্লাস অনলাইনে নিতে পারি তাহলে কাউকে আর ঢাকায় আসতে হলো না, কারও কারও টাকাও দিতে হচ্ছে না- যেই প্লান সেই কাজ; এখান থেকেই যাত্রা শুরু। ২০১৪ সালে আমাদের ফেসবুক পেজের মাধ্যমে যাত্রা শুরু ‌। এরপর ২০১৫ সালে অফিশিয়াল কোম্পানির লাইসেন্সও আমরা নিয়েছি। গতবছর ২০২১ সাল নাগাদ গত সাত বছরে আমরা প্রথম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত সবগুলো ভিডিও শেষ করে ফেলেছি।

প্রশ্ন: আর কী কী কোর্স রয়েছে টেন মিনিট স্কুলে?

আয়মান সাদিক: প্রথম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত সবগুলো ভিডিওর পাশাপাশি ভর্তি পরীক্ষার সবগুলো কোর্স, বিসিএসের কোর্স, ব্যাংকসহ আইএলটিএস-এর কোর্স আমাদের এখানে রয়েছে। এছাড়াও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাহিরে যেসব স্কুল গুলো আমাদের দরকার যেমন, স্পোকেন ইংলিশ, মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, এক্সেল , পাওয়ার পয়েন্ট-ফেসবুক মার্কেটিং, কোরআন শিক্ষা, নামাজ শিক্ষা, আরবি শিক্ষাসহ সহজে সব ধরনের কনটেন্ট টেন মিনিট স্কুলে পাওয়া যাচ্ছে।

কথা বলছেন টেন মিনিট স্কুুলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আয়মান সাদিক।

প্রশ্ন: অনলাইনে যারা শিখতে চায়-তাদের উদ্দেশে কি বলবেন?

আয়মান সাদিক: নতুন যারা অনলাইনে শিক্ষার্থী আছেন তাদের জন্য আমার একটাই অনুরোধ। শুধু শিখো; আমাদের এখন যেকোন স্কিল যেকোনো জিনিস নলেজ পাওয়া খুবই সহজ। আপনি কোন কিছু শিখতে চান অনলাইনে যান সার্চ করুন পেয়ে যাবেন। শুধুমাত্র অনলাইনেই বা টেন মিনিট স্কুলেই যে আপনার কোর্স করতে হবে বিষয়টি এমন নয়। ইউটিউবে সার্চ করলেই আপনি ভিডিও পেয়ে যাবেন, গুগলের সার্চ করুন প্রচুর আর্টিকেল পেয়ে যাবেন। যদি এভাবে বলি, শেখার যাত্রাটা এখন অনেক সহজ হয়ে গিয়েছে। এককালে বলা হতো সুদূর চীন দেশে যেতে হলে ও জ্ঞানের জন্য যাও কিন্তু এখন মোবাইলে কয়েকটি বাটন টিপলে হয়ে যায়। কোন একটা প্রতিষ্ঠানে যুক্ত হতে হবে, কোনো একটা ক্লাসে ভর্তি হতে হবে বিষয়টি এমন নয়। আমরা কখনো বলি না আমাদের কাছে শিখো, আমরা বলি অনলাইনে শিখো। বিনামূল্যে সব দেওয়া আছে। আমার মনে হয়; এই পার্টটি যদি ডেভেলপমেন্ট করতে পারি, আমরা প্র্যাকটিস করতে পারি তাহলে অনেক ভালো হয়।

প্রশ্ন: নতুন বছরে সবার উদ্দেশে কি বলবেন?

আয়মান সাদিক: নতুন বছরে নতুন উদ্যমে নতুন করে পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা উচিত। একটা কমপ্লিট লিস্ট করে ফেলা উচিত। পরিকল্পনা করে ফেলা উচিৎ। নিউ ইয়ার রেজুলেশন-নামে একটা কমপ্লিট প্লান করে ফেলা উচিত; আমার এই বছরে আমি এই এই জিনিসগুলো শেখা দরকার এবং লিস্ট করে মাস ওয়াইজ ভাগ করে শুরু করে দেওয়া উচিত। তাহলেই এগিয়ে যাওয়া যাবে।

প্রশ্ন: টেন মিনিট স্কুলের নতুন একাডেমিক প্রোডাক্ট “অনলাইনে অফলাইন লার্নিং” সম্পর্কে জানতে চাই?

আয়মান সাদিক: ২০২২ সালে সালে আমাদের প্রথম থেকে একদম দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত সবগুলো ক্লাস এর প্রতিটি অধ্যায়ের ভিডিও লেসন আমরা করে ফেলেছি। পঁচিশ হাজার ফ্রি ভিডিও আছে যেগুলো আমাদের অ্যাপে গেলেই আপনি পাবেন। সাথে সাথে নতুন চমক হলো আমাদের ওয়েবসাইট এবং অ্যাপে লাইভ ক্লাস করা যাবে। আগে যেটা ফেসবুকে ইউটিউবে করা যেতো সেটা এখন অ্যাপে করা যাবে; শিক্ষককে সরাসরি কোশ্চেন করা যাবে তার উত্তর পাওয়া যাবে, সমস্যার সমাধান হবে-বলা চলে সবকিছু একসাথে হাতের মুঠোয় পাওয়া যাবে।

প্রশ্ন: আপনাদের লাইভ ক্লাসের যে অ্যাপটি রয়েছে-সে সম্পর্কে জানতে চাই। শিক্ষকদের মান নিয়েও কিছু বলুন?

আয়মান সাদিক: টেন মিনিট স্কুলের নতুন এই অ্যাপে যে ক্লাসগুলো হবে বা আমরা বলি অনলাইন কোচিং এটা আমরা সাজিয়েছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েট ঢাকা মেডিকেল কলেজ বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের টিচারদের দ্বারা। অর্থাৎ এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা পড়াশোনা করে তারাই বিভিন্ন কোচিং এ ক্লাস নিচ্ছে, তারাই আমাদের শিক্ষক। এবং বেস্ট গুলোকে আমরা বেঁছে নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভাইয়ের ক্লাস, বুয়েটে ভাইয়ের ক্লাস গুলো-এরকম বলা হয়; তাদের জন্য আসলে ঢাকার বাইরের নেওয়ার উদ্দেশ্যে আমাদের এই যাত্রা। শুধু ক্লাস না ক্লাসের সাথে সাথে ছাত্র-ছাত্রীরা প্রশ্ন করতে পারবে, উত্তর দিতে পারবে। এবং কমপ্লিট স্টাডি মেটেরিয়াল পাবে। রিভিশন কার্ড, লেকচারশীট, নোটস সব কিছু।

প্রশ্ন: টেন মিনিট স্কুলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চাই?

আয়মান সাদিক: আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হলো আমাদের টেন মিনিট স্কুল অ্যাপ টি বাংলাদেশের যত জন স্টুডেন্ট আছে সবার মাঝে পৌঁছে দেওয়া। দেশে এখন সাড়ে চার কোটি রেজিস্টার্ড ছাত্র-ছাত্রী আছে আমাদের টেন মিনিট স্কুল অ্যাপে ৩১ লক্ষ। বলা চলে আমাদের যাত্রা মাত্র শুরু এখনো বহুদূর চলার পথ বাকি। সামনের দিনগুলোতে আমাদের ইচ্ছা থাকবে সব স্টুডেন্ট আমাদের অ্যাপে আনা, বিনামূল্যে তাদের শিক্ষা উপকরণ পৌঁছে দেওয়া। ঢাকার বেস্ট টিচারদের তাদের হাতের মুঠে পৌঁছে দেওয়া । তাদের পড়াশুনার যাবতীয় সমস্যা সমাধান করা এবং শুধুমাত্র কারিকুলাম বা পাঠ্যপুস্তকের পড়া নয় এর বাহিরেও যেসব স্কিল দরকার যেগুলো স্কুল-কলেজে শেখানো হয় না বা সুযোগ থাকে না সেগুলোও শেখানো।

প্রতিষ্ঠানটির ফেসবুক পেজ:  https://www.facebook.com/10minuteschool. ইউটিউব চ্যানেল: https://www.youtube.com/channel/UCL89KKkLs0tZKld-iIS3NGw

 

সারাদিন.১৫ জানুয়ারি. এসআর