সংযোগ সড়কের অভাবে আশীর্বাদ এখন অভিশাপ

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৩৪ পূর্বাহ্, এপ্রিল ১৮, ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলা ও চাটমোহর উপজেলার চলনবিল বেষ্টিত ৮-১০টি গ্রামের মানুষের জন্য একসময় আশীর্বাদ হয়ে এসেছিল সাড়ে চার কিলোমিটার সাবমারসিবল সড়ক। তবে নির্মাণের আড়াই দশক পর সংস্কারের অভাব ও সংযোগ সড়ক না থাকায় সেটিই এখন পরিণত হয়েছে ভোগান্তির প্রতীকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০০ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এ সড়কটি নির্মাণ করে। ভাঙ্গুড়ার অষ্টমনিষা ইউনিয়নের বিশাকোল, বাঁশবাড়িয়া ও সাতবাড়িয়াসহ অন্তত ৮–১০টি গ্রামের মানুষের যাতায়াত ও কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্য এটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

পরে বাঁশবাড়িয়া এলাকায় পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় পুরনো কালভার্ট অপসারণ করে গত বছর প্রায় ১ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন কালভার্ট নির্মাণ করা হয়। কিন্তু এর সঙ্গে প্রয়োজনীয় সংযোগ সড়ক নির্মাণ না করায় সেটি এখন কার্যত ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

ভাঙা সড়ক, ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল

সরেজমিনে দেখা গেছে, কালভার্টের একপাশের সংযোগ সড়ক ভেঙে নিচে নেমে গেছে। জমে থাকা পানিতে কচুরিপানা ভরাট হয়ে পুরো অংশটি অচল হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সাবমারসিবল সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে গিয়ে কাদা জমেছে। কোনো সতর্কতামূলক চিহ্ন না থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।

স্থানীয়দের মতে, এই সড়কটি শুধু স্থানীয় গ্রামবাসীর নয়, আশপাশের আরও কয়েকটি গ্রামের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। এমনকি ভাঙ্গুড়া থেকে নওগাঁ যাওয়ার বিকল্প পথ হিসেবেও ব্যবহৃত হতো এটি। প্রতিদিন শত শত মানুষ, শিক্ষার্থী ও কৃষক এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল।

Nagad

দুর্ভোগে কৃষক ও শিক্ষার্থীরা

স্থানীয় কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘এই রাস্তা ভালো থাকলে আমরা সহজে ফসল বাজারে নিতে পারতাম। এখন অনেক দূর ঘুরে যেতে হয়, খরচ বাড়ে, লাভ কমে।’

গাড়িচালক আব্দুল করিম জানান, আগে যেখানে সহজে যাতায়াত করা যেত, এখন ভাঙা রাস্তার কারণে ৫–৬ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হচ্ছে। অটোচালক মো. সোহেল বলেন, ‘অন্যের জমির আইল দিয়ে গাড়ি চালাতে হয়, একটু ভুল হলেই দুর্ঘটনা হতে পারে।’

স্কুল শিক্ষার্থী সাব্বির জানায়, এই সড়কটি ব্যবহার করতে না পারায় প্রতিদিন ক্লাসে পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে।

এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম বলেন, মূল সমস্যা সংযোগ সড়ক না থাকা। তিনি জানান, দুই পাশে আরও ৩০ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। অনুমোদন পেলে দ্রুত কাজ শুরু হবে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ ও পুরো সড়কের সংস্কার না হলে এ অঞ্চলের মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে। সূত্র: জাগো নিউজ