ইসলাম ধর্ম অবমাননা নিয়ে ঝালকাঠির মামলায় আসামী সনাক্ত : তদন্তে অগ্রগতি

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:০৫ অপরাহন, মে ২১, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক : ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তি ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে বরিশালের ঝালকাঠিতে দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে বলে আদালতকে জানিয়েছে ঝালকাঠি থানার গোয়েন্দা শাখা ৫ই মার্চ এর শুনানীতে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মামলার বেশ কয়েকজন আসামিকে এরই মধ্যে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তবে তদন্ত সম্পন্ন এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুতের জন্য আরও সময় প্রয়োজন বলে আদালতের কাছে আবেদন জানায় তদন্ত সংস্থা। 

উল্লেখ্য : এ বছর গত ৪ঠা জানুয়ারী ঝালকাঠি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ধর্ম অবমাননা, বিদ্রূপাত্মকভাবে ইসলাম ধর্মকে উপস্থাপন এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে ইচ্ছাকৃত আঘাতের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার বাদী নজীর আহম্মদ দ্বারা দায়েরকৃত অভিযোগে উল্লখ করা হয়েছিল যে একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত কয়েকটি লেখায় ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে আপত্তিকর, বিদ্রূপাত্মক ও অবমাননাকর বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়েছে। সে অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট লেখকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারী ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়। ৪ঠা জানুয়ারী প্রথম শুনানি শেষে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নওরীন কবির মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য ঝালকাঠি পুলিশ থানার গোয়েন্দা শাখার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। আদালত সূত্র জানায় মামলাটি ফৌজদারি দণ্ডবিধি ১৮৬০ (সংশোধিত)-এর ২৯৫, ২৯৫(ক), ২৯৮ ও ৩৪ ধারায় দায়ের করা হয়েছিল এবং সি.আর.-০৩/২০২৬ নম্বরে নথিভুক্ত করা হয়েছিল। মামলায় মোট উনিশজনকে আসামী করা  হয়েছিল – গাজী আফতাবুন নেসা রিতি, সমীর হালদার, নুরুল আমিন, মোঃ তানভির হোসেন, সাব্বির আহমেদ, মোঃ জাকির হোসাইন, মোঃ মিজানুর রাহমান, বুরহান উদ্দীন, রাজীব সাহা, রুমানা পারভীন, মোসাম্মাত নাসরিন সুলতানা, মুনায়েম আহমেদ, গাজী মোহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম, মোঃ মোশাররফ হোসাইন ও আব্দুল্লাহ আল হোসাইনসহ অন্যান্য। মামলাটিতে কিছু শুনানী ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। 
অন্যদিকে, অভিযোগে উল্লেখিত “এথিস্ট ইন বাংলাদেশ”-এর পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এই রিপোর্ট লেখার সময় ওয়েবসাইটটি বন্ধ পাওয়া গেছে। তদন্তাধীন অবস্থায় এই ওয়েবসাইটের বিরূদ্ধে কোনো আইনী ব্যবস্থা নেয়ার কারনে এটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে কিনা সেটা এই রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। 
বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় ধর্মীয় অনুভূতির বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ধর্ম নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য বা প্রকাশনা প্রায়ই জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং অনেক ক্ষেত্রে তা আইনগত প্রক্রিয়ায় গড়ায়। বিশ্লেষকদের মতে, ডিজিটাল যুগে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি সামাজিক সম্মানের প্রশ্নটি ক্রমেই আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। 

মামলার বিচারকাজ চলমান এবং পরবর্তী শুনানি ২৪শে মে।