১২ বছরের শাবানার চিকিৎসায় সহায়তা চান অসহায় মা

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭:০৯ পূর্বাহ্, সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬

১২ বছরের শাবানার এখন স্কুলে যাওয়ার বয়স। সহপাঠীদের সঙ্গে আনন্দে সময় কাটানোর কথা তার। কিন্তু বিরল ও জটিল এক রোগে আক্রান্ত হয়ে এখন বিছানায় দিন কাটছে শিশুটির। মুখের ডান পাশে জন্মগতভাবে তৈরি হওয়া রক্তনালীর অস্বাভাবিক বৃদ্ধি সময়ের সঙ্গে বড় হয়ে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করেছে।

চিকিৎসকদের ভাষায়, শাবানা ‘ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সফট টিস্যু লেশন/হেমাঙ্গিওমা’-অর্থাৎ রক্তনালীর ভাস্কুলার ম্যালফরমেশন বা টিউমারে আক্রান্ত। জন্মের পর থেকেই তার ডান গালের ভেতরে নীলাভ রঙের ছোট একটি পিণ্ড ছিল। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেটি অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগে করা সিটি অ্যানজিওগ্রাম পরীক্ষায় দেখা গেছে, টিউমারটি বর্তমানে প্রায় ৭ দশমিক ০ সেন্টিমিটার × ৮ দশমিক ১৩ সেন্টিমিটার × ৩ দশমিক ৩০ সেন্টিমিটার আকার ধারণ করেছে।

পরীক্ষার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিণ্ডটি ডান গাল ও মাড়ির জিঞ্জিভোবাক্কাল মিউকোসা থেকে ডান ঠোঁট হয়ে মাথার খুলির গভীর অংশ ইনফ্রাটেম্পোরাল ফোসা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। মুখের প্রধান রক্তনালী ফেসিয়াল আর্টারি টিউমারের ভেতরে প্রবেশ করে সেখানে রক্ত সরবরাহ করছে।

বিএমইউর ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি বিভাগের চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে শাবানার চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকদের মতে, মুখের বিকৃতি রোধ এবং সম্ভাব্য বড় ধরনের রক্তক্ষরণের ঝুঁকি এড়াতে জরুরি ভিত্তিতে জটিল অস্ত্রোপচার প্রয়োজন।

হাসপাতালের সমাজসেবা কার্যালয়ের রোগীকল্যাণ সমিতির হিসাবে, অস্ত্রোপচার, ওষুধ ও আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ প্রাথমিকভাবে প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা প্রয়োজন। পরবর্তী ফলোআপ ও পুনর্বাসনসহ চিকিৎসার ব্যয় আরও বাড়তে পারে।

Nagad

মেয়ের চিকিৎসার টাকা নেই মায়ের

শাবানার বাবা শাহেদ মল্লিক পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন। সম্প্রতি ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে তিনি পক্ষাঘাতগ্রস্ত অবস্থায় শয্যাশায়ী। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি কর্মক্ষমতা হারানোর পর চরম আর্থিক সংকটে পড়ে পরিবারটি।

বর্তমানে শাবানার মা নাজমা আক্তার বাসাবাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের পারগেণ্ডারিয়া এলাকায় চার সদস্যের পরিবারটির মাসিক আয় মাত্র ৬ হাজার টাকা। এই সামান্য আয়ে স্বামীর ওষুধের খরচ ও পরিবারের খাবার জোগাড় করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

এর মধ্যে মেয়ের ব্যয়বহুল অস্ত্রোপচারের খরচ জোগাড় করা পরিবারের পক্ষে প্রায় অসম্ভব।

নাজমা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘মেয়েটার মুখের ফোলা দিন দিন বাড়ছে। ডাক্তাররা দ্রুত অপারেশন করাতে বলেছেন। কিন্তু আমরা তো ওষুধ কেনার টাকাই জোগাড় করতে পারি না। সমাজের হৃদয়বান মানুষগুলো একটু সহায়তা করলে মেয়েটার চিকিৎসা করাতে পারব।’

শাবানার পরিবার জানিয়েছে, তাদের কোনো ব্যাংক বা বিকাশ অ্যাকাউন্ট নেই। চিকিৎসায় সহায়তা করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা পরিবারের নিজস্ব নগদ নম্বরে অর্থ পাঠাতে পারবেন।

সহায়তা পাঠানোর ঠিকানা

নগদ: 01984-297040
রোগীর ঠিকানা: পারগেণ্ডারিয়া (কেরানীগঞ্জ পার্ক সংলগ্ন), দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, ঢাকা।

শাবানার জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সমাজের সামর্থ্যবান ও হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা চেয়েছে তার পরিবার। সামান্য আর্থিক সহায়তাও এই শিশুটির চিকিৎসা শুরু এবং তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।